ছাত্র থাকা অবস্থায় আমার চবিতে সর্বশেষ এচিভমেন্ট!

৫ম সেমিস্টারে থাকাকালীন সময়ে আমার একটা নেশা শুরু হইসিলো। সেটা হলো বিভিন্ন কম্পিটিশনে এটেন্ড করা। করোনা কালীন সময়ে আমি CURI কর্তৃক আয়োজিত একটা সায়েন্স রিলেটেড ব্লগ রাইটিং কম্পিটিশনে সেকেন্ড হইসিলাম -- আর এটাই ছিলো চবিতে আমার প্রথম কোনো কম্পিটিশনে এটেন্ড করা। আমার সবসময়ের পছন্দ ছিলো মহাকাশ রিলেটেড বিষয়াদি আর সেটা নিয়েই লিখেছিলাম একটা ব্লগ। নামটা এই মূহূর্তে অনেকবার মনে করার চেষ্টা করলেও তা মনে পরতেসে না। ২০২০ সালের কাহিনী ২০২৬ সালে মনে না থাকাটা খুব একটা অস্বাভাবিক না আশা করি। তবে ঐ কম্পিটিশনে আমাকে আসলে ইইই এর সায়েম ভাই জোড় করেই এটেন্ড করাইসিলো। আগের রাতে ম্যাসেজ দেয় যে পরেরদিন লাস্ট ডেট এখোনো কেনো কিছু দিচ্ছি না। আমি বলি ভাই লিখতেসি, শেষ হলেই দিয়ে দিবো। আসলে লিখতে বসছিই উনি বলার পরে। :3 এরপর এক রাতের মধ্যে যা পারসি লিখে দিসি। 

 ঐ কম্পিটিশনে আমাকে প্রথম রানার আপ ঘোষণা করে ৭০০ টাকা পুরষ্কার দেয় আর একটা ই-সার্টিফিকেট দেয়। আর সেই ৭০০ টাকা আমি আমার মার ঔষধ কিনতে দিয়ে দিসিলাম। -_-

এরপর একই সময়ে আমি আবার Science Bee তে বিনামূল্যে নিউজ রিপোর্টার/ব্লগার হিসেবে জয়েন করি। কন্ট্রিবিউশন পার্পাসে আর কি! একে আমরা ফ্রি কামলা খাটাও বলি অনেক সময়। সেসময় যারা সায়েন্স বি তে কাজ করতো, তাদের মধ্যে ইন্টার্নাল একটা রাইটিং কম্পিটিশন হয়। এক্সাক্টলি কি নিয়ে তা আমার মনে নাই। সেসময় আমাদের টিম আর একটা টিমের মধ্যে ভোটিং নিয়ে ভালোই একটা কম্পিটিশন হয়। ফাইনালি আমরাই সর্বোচ্চ ভোট পাই। এরপর আমাকে পুরষ্কার হিসেবে একটা টি-শার্ট দেয়া হয়। আর সেটাও আমি দিয়ে দিসি আমার বন্ধু মাসুদকে কারণ ওর গায়ে ভালোভাবে ফিট হইসিলো।

এরপর জীবনের একটা ইচ্ছে ছিলো প্রোগ্রামিং এ একটা প্রাইজের। সেটা প্রথম ফিল-আপ হয় ভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং ডে তে সেকেন্ড হয়ে। আর তারপর নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে থার্ড হয়ে। নোয়াখালিতে আমাদের ১৫০০ টাকা দেয় প্রাইজমানি হিসেবে, তবে সেসময় আমাদের আসলে ভাড়াই চলে গেসিলো ৩ জনের ১৮০০ এর মতো। :3 এরপরও আমরা খুশি ছিলাম। বিশেষত শেষ সময়ে এসে আমার কন্ট্রিবিউশনের কারণে টপ ৩ র‍্যাংকে চলে আসার ব্যাপারটার জন্য। এখোনো মনে আছে যে সেটের একটা প্রবলেমে আমি টেস্ট কেসের উপর কমপ্লেক্সিটি বুঝাইতেই পারি নাই আমার টিমমেটদের। অবশ্য সেম ঘটনা ইঞ্জিনিয়ারিং ডে তেও হইসিলো।

এরপর অতনুর সাথে এক এক করে চবি হাল্ট প্রাইজ, কুয়েট এর ক্যালিব্রেশন, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ইনোভেশন ফেয়ার, চবির ইনোবেশন হাব সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রজেক্ট শোকেসিং এ প্রাইজ পাওয়া। মাঝে অবশ্য আমরা আবার ঢাবি তে হ্যাকাথনে এটেন্ড করি। এটা ছিলো সেরা একটা এক্সপেরিয়েন্স। আমি মাসুদ আর অতনু! ১০ তারিখ ঢাকা গিয়ে, ১১ এবং ১২ ঢাবি ক্যাম্পাসে সারাদিন রাত থাকি আর হ্যাকাথন করি এরপর কোনো প্রাইজ ছাড়া ১৩ তারিখ চট্টগ্রাম পৌছাই। ঐ হ্যাকাথন থেকে এটা শিখতে পারসি যে সফটওয়্যার বিল্ড করা মানেই প্রব্লেম সল্ভ করা। খালি কোডিং আর অপ্টিমাইজেশন না। শিখা লাগবে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স, শিখা লাগবে সিস্টেম ডিজাইন সহ অনেক কিছু।

এর মধ্যে আবার একদিন ওয়াশরুমে বসে বসে মোবাইলে দেখতেসিলাম যে ভার্সিটিতে কি একটা থার্ড পার্টি কোম্পানি এসে ক্যাম্পাসের প্রবলেম আর সলিউশন সম্পর্কে জানতে চাইসে। সেখানে বেস্ট ৩ জনকে ওরা প্রাইজও দিবে। আমি ওয়াশরুমে বসে বসেই সাবমিট করে দিসিলাম। এরপর একদিন দুপুরের পর হঠাত বাসা থেকে কল আসে আর কিছু খারাপ সংবাদ পাই। আমি এত্ত মন খারাপ করসি যে ডিপার্টমেন্টের কিছু জুনিয়র কল দিচ্ছিলো কেনো জানি, আমি কারো কল ধরি নাই। আর এত এত কল আসতেসিলো দেখে রাগে মোবাইল অফ করে ঘুমায় গেসি। ঘুম থেকে উঠে শুনি আমি নাকি সেই কোয়শ্চেনারি তে ২০০০ টাকা প্রাইজ পাইসি যেটা আলভী বা ত্বকীর কাছে আছে। আমি তো শুনে অবাক। মজা লাগসে। পরবর্তীতে সেই টাকা আমার আর পাওয়া হয় নাই। আল্ভী মেরে দিসে।

এছাড়াও লার্নাথন সহ আরো টুকটাক বেশ কিছু কম্পিটিশনে এটেন্ড করলেও সেগুলাতে হয় ডাব্বা মারি আমি আর নাহলে সিরিয়াসলি কিছু করি নাই। তাই সেগুলো এখানে না বলি।

এরপর মে মাসের প্রথম দিন, মে দিবস/শ্রমিক দিবস উপলক্ষে চাকসু একটা রাইটিং কম্পিটিশনের এরেঞ্জ করে। এখানে বলে রাখা ভালো যে চাকসুর সাথে আমার বোঝাপড়া অত্যন্ত জঘন্য লেভেলের এবং এটা মোটামুটি সবার জানা। তাও আমার মনে হইসে যে এটায় আমি এটেন্ড করি। যদিও আমরা টিপিকালি যেইভাবে পেপার লেখি কিংবা যেই ফর্ম্যাটে লেখি, চাকসু সেটা ইম্পোজ না করে আর্টস ফ্যাকাল্টির স্টাইলে সাবমিশন চাইসে, তাও আমি এটেন্ড করি। ৩/৪ দিন অন্তত সময় দিয়ে আমি লিখা কমপ্লিট করি। এরপর কাটসিট করা লাগসে কারণ ওয়ার্ড লিমিটও ছিলো। তো ফাইনালি আমি সাবমিট করি। সাবমিট করার আগে আমি শিমুল ভাই, সিফাত সহ মোটামুটি সবাইকে একটু করে আগেই জানাই যে আমি সাবমিট দিবো। কেন জানি মনে হচ্ছিলো এটায় টপ ৫এ থাকা কোনো ব্যাপার হবে না আমার জন্য। আর হইসেও তা। এই কম্পিটিশন নিয়া আমার কোনো ফিলিংস নাই। আমার মনে হইসে ১ মাসের মধ্যে আমার মাস্টার্সের থিসিস সাবমিশন হয়ে যাবে। যেহেতু সময় আছে, শেষ একটা কম্পিটিশনে এটেন্ড করেই ফেলি। 

মজার বিষয় হলো, যেদিন ঘোষণা করসে, তার অন্তত ৫দিন পর আমি জানতে পারসি যে আমিও টপ ৫ এ আছি। এরপর বাকিদেরও জানাই। সবাই আমাকে গুপ্ত বলে ঢাকা শুরু করসে। :3

কম্পিটিশনের এনাউন্সমেন্ট আর টপ ৫ এর পোস্টের ছবি নিচে শেয়ার করে রাখলাম।




ফান ফ্যাক্টঃ আমার নামের বানান ভুল লিখসে ওরা।

ফান ফ্যাক্ট ১ঃ নামের ৩টা পার্টের মধ্যে ২টাই ভুল।


Brainless Loco

No comments:

Post a Comment

Hello there! If you have read any of my blogs, please feel free to give me feedbacks via comments or message. This'll really help me to to improve.
Please don't share any spam via comments.